love dairy
¤ ২৫-৩-০৪
আজ শ্রাবন্তিকে প্রথম দেখলাম। ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে এই নতুন এলাকায় এসেছি মাত্র ২ মাস আগে। এখনো অনেক কিছুই চিনি না। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে চা সিগারেট খাচ্ছিলাম। কোথা থেকে যেনো এসে আমার সামনে দাড়ালো। একটা অচেনা মেয়ে এভাবে সামনে দাড়ালে যা হয় তাই হলো, হাত থেকে কাপটা পড়ে ভেঙ্গে গেলো। আমার এই অবস্থা দেখে একটা অদ্ভুত হাসি দিলো। কিছু একটা ছিলো সেই হাসিতে। এরপর শুরু হলো....
=আপনাকে ভদ্র ভেবেছিলাম, কিন্তু আপনিও?
=আ....আ....আমি কি?
=সিগারেট টানছেন কেনো? আমাদের বাসায় থাকতে হলে কোনো সিগারেট চলবে না।
=আপনাদের বাসা মানে?
=আপনি যে বাসায় থাকেন সেটা আমাদের।
=ও আচ্ছা।
=আর যেনো সিগারেট খেতে না দেখি।
এটা বলেই হনহন করে হেটে গেলো। আমি নিরব শ্রোতা। আমি আর এই মেয়ে একই বাড়িতে ২ মাস ধরে থাকি অথচ আজ পর্যন্ত দেখাই হয়নি!! আর মেয়েটা আমার খবর রাখে কেনো? ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।
¤১৪-২-০৫
আজ আমি আর শ্রাবন্তি একসাথে হাটা শুরু করলাম। আসলে গত এক বছরে এই রাগী মেয়েটার কান্ড দেখে কখন যে ওর প্রেমে পড়েছি খেয়ালই করিনি। আজ প্রপোজ করলাম। এতো সহজে আমার হাতে হাত রাখবে বুঝিনি। আসলে এই রাগী মেয়েটা আমাকে অনেক আগে থেকে পছন্দ করতো। নারীর বুক ফাটে তো মুখ খোলে না বলে কথা। আমার খুশি আর দেখে কে,আমি পাইলাম, উহাকে পাইলাম অবশেষে।
¤৩-১-০৯
আজ আমি চাকরী পেয়েছি। বেশ ভালোই, ২৫০০০ টাকা বেতন,সাথে অন্যান্য সুবিধা। আজই শ্রাবন্তির বাবার কাছে প্রস্তাব পাঠাবো। শুনেছি লোকটা রাগী। কিন্তু আজ বলবোই,যা আছে কপালে।
¤২৪-৬-০৯
আজ আমাদের বিয়ে। ওর বাবা প্রথমে মেনে নেয়নি, পরে মেয়ের সুখের কথা ভেবে রাজি হয়েছেন। আমাদের ভালোবাসা আজ পুর্নতা পেলো। যাই, বৌটাকে আর একটু পুর্নতা দেই। কি সুন্দর পুতুলের মত বৌ আমার,ওকে একা একা বসিয়ে রাখা ঠিক হবে না।
¤১১-৯-১০
আজ হঠাত বাবার হার্ট অ্যাটাক হলো। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। ডাক্তার বলেছে অবস্থা ক্রিটিকাল, ২ দিনের মধ্যে অপরেশন লাগবে। খরচ প্রায় ৪ লাখ টাকা। এতো টাকা কোথায় পাবো???
¤১২-৯-১০
আজ জীবনে প্রথমবার এখানে আসলাম। হ্যা, জুয়া খেলতে। শ্রাবন্তি বারন করেছিলো, কিন্তু আর কোনো উপায় নেই। অনেক কষ্টে ২ লাখ যোগাড় করেছি। বাকি ২ লাখ কোথায় পাবো? তাই বন্ধুর সহায়তায় এখানে এসেছি। আমার ভাগ্য ভালোই ছিলো, মাত্র ২ দিনে টাকার ব্যাবস্থা হয়ে গেলো।
¤১৫-৯-১০
বাবার অপরেশন সফল হয়েছে। বাবা বিপদ মুক্ত। আমি পেরেছি, আমি পেরেছি ছেলে কর্তব্য পালন করতে। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন।
¤১৫-১-১১
পাপী পাপলে ছাড়লেও পাপ পাপীকে ছাড়ে না। আমার বেলায়ও তাই হয়েছে। আমি এখন পাকা জুয়াড়ি। টাকার নেশা আমি ছারতে পারিনি। অঢেল টাকা আমার চারপাশে। এসবের কিছুই ও জানে না। ওকে বলেছিলাম এসব বাদ দিয়েছি। কিন্তু টাকার সামনে ওয়াদা বড় ক্ষুদ্র।
¤১৪-২-১১
আজ আমাদের ভালোবাসার ৬ বছর পুরন হবে। চেয়েছিলাম ওকে একটা সারপ্রাইজ দেবো। কিন্তু আজ জুয়ার আসরে আমি বড় ধাক্কা খেলাম। টাকার চিন্তায় জীবনে প্রথম মদ খেলাম। আমাকে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বাসায় পৌছে দেয় কয়েকজন। আমার হুশ ছিলো না, সেই সুযোগে ওরা আমার নিষ্পাপ বৌয়ের উপর নির্যাতন চালায়। আমি শুধু একটি আর্তচিতকার শুনেছিলাম,তারপর সব নিরব।
¤১৫-২-১১
>সকাল ১১ টা।
আমার হাতে শ্রাবন্তির চিঠি।
"বলেছিলে আজ সারপ্রাইজ দেবে, কিন্তু এতো বড় সারপ্রাইজ আশা করিনি"
আমার সামনে সিলিং এর সাথে শ্রাবন্তি ঝুলছে।
>দুপুর ২ টা।
সামনে তিনটি গলা কাটা লাশ। যারা আমার নিষ্পাপ বৌকে নির্যাতন করেছে তাদের সবকটাকে নিজের হাতে শেষ করেছি। চিতকার করতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি নির্বাক। সব ভুল গুলো চোখের সামনে ভাসছে। ওর কোনো কথা শুনিনি। তাই আজ আমার এই পরিনতি। এই পাপের একমাত্র শাস্তি মৃত্যু।
¤২৪-৬-১৩
আজ আমাদের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী। আজ আমি ওর কাছে যাবো। এতো দিন অনেক কষ্ট হয়েছে ওকে ছাড়া থাকতে।ওইতো আমাকে ডাকছে। হ্যা, সেই কন্ঠ, সেই মুখ, সেই হাসি। আসছি,আর মাত্র কয়েকটি ঘন্টা, আমি আসছি।
.
এতোক্ষন ৩ নাম্বার কেবিনের আসামীর ডাইরী পরছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জনাব নাসিম আহমেদ। চোখের কোনে বিন্দু বিন্দু জল জমেছে। তিনটি খুনের দায়ে সদ্য মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা লাশের দিকে তাকালেন তিনি। লাশটার মুখে হালকা হাসির রেখা দেখা যাচ্ছে। এ হাসি মুক্তির হাসি অথবা পুনর্মিলনের।
আজ শ্রাবন্তিকে প্রথম দেখলাম। ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে এই নতুন এলাকায় এসেছি মাত্র ২ মাস আগে। এখনো অনেক কিছুই চিনি না। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে চা সিগারেট খাচ্ছিলাম। কোথা থেকে যেনো এসে আমার সামনে দাড়ালো। একটা অচেনা মেয়ে এভাবে সামনে দাড়ালে যা হয় তাই হলো, হাত থেকে কাপটা পড়ে ভেঙ্গে গেলো। আমার এই অবস্থা দেখে একটা অদ্ভুত হাসি দিলো। কিছু একটা ছিলো সেই হাসিতে। এরপর শুরু হলো....
=আপনাকে ভদ্র ভেবেছিলাম, কিন্তু আপনিও?
=আ....আ....আমি কি?
=সিগারেট টানছেন কেনো? আমাদের বাসায় থাকতে হলে কোনো সিগারেট চলবে না।
=আপনাদের বাসা মানে?
=আপনি যে বাসায় থাকেন সেটা আমাদের।
=ও আচ্ছা।
=আর যেনো সিগারেট খেতে না দেখি।
এটা বলেই হনহন করে হেটে গেলো। আমি নিরব শ্রোতা। আমি আর এই মেয়ে একই বাড়িতে ২ মাস ধরে থাকি অথচ আজ পর্যন্ত দেখাই হয়নি!! আর মেয়েটা আমার খবর রাখে কেনো? ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।
¤১৪-২-০৫
আজ আমি আর শ্রাবন্তি একসাথে হাটা শুরু করলাম। আসলে গত এক বছরে এই রাগী মেয়েটার কান্ড দেখে কখন যে ওর প্রেমে পড়েছি খেয়ালই করিনি। আজ প্রপোজ করলাম। এতো সহজে আমার হাতে হাত রাখবে বুঝিনি। আসলে এই রাগী মেয়েটা আমাকে অনেক আগে থেকে পছন্দ করতো। নারীর বুক ফাটে তো মুখ খোলে না বলে কথা। আমার খুশি আর দেখে কে,আমি পাইলাম, উহাকে পাইলাম অবশেষে।
¤৩-১-০৯
আজ আমি চাকরী পেয়েছি। বেশ ভালোই, ২৫০০০ টাকা বেতন,সাথে অন্যান্য সুবিধা। আজই শ্রাবন্তির বাবার কাছে প্রস্তাব পাঠাবো। শুনেছি লোকটা রাগী। কিন্তু আজ বলবোই,যা আছে কপালে।
¤২৪-৬-০৯
আজ আমাদের বিয়ে। ওর বাবা প্রথমে মেনে নেয়নি, পরে মেয়ের সুখের কথা ভেবে রাজি হয়েছেন। আমাদের ভালোবাসা আজ পুর্নতা পেলো। যাই, বৌটাকে আর একটু পুর্নতা দেই। কি সুন্দর পুতুলের মত বৌ আমার,ওকে একা একা বসিয়ে রাখা ঠিক হবে না।
¤১১-৯-১০
আজ হঠাত বাবার হার্ট অ্যাটাক হলো। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। ডাক্তার বলেছে অবস্থা ক্রিটিকাল, ২ দিনের মধ্যে অপরেশন লাগবে। খরচ প্রায় ৪ লাখ টাকা। এতো টাকা কোথায় পাবো???
¤১২-৯-১০
আজ জীবনে প্রথমবার এখানে আসলাম। হ্যা, জুয়া খেলতে। শ্রাবন্তি বারন করেছিলো, কিন্তু আর কোনো উপায় নেই। অনেক কষ্টে ২ লাখ যোগাড় করেছি। বাকি ২ লাখ কোথায় পাবো? তাই বন্ধুর সহায়তায় এখানে এসেছি। আমার ভাগ্য ভালোই ছিলো, মাত্র ২ দিনে টাকার ব্যাবস্থা হয়ে গেলো।
¤১৫-৯-১০
বাবার অপরেশন সফল হয়েছে। বাবা বিপদ মুক্ত। আমি পেরেছি, আমি পেরেছি ছেলে কর্তব্য পালন করতে। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন।
¤১৫-১-১১
পাপী পাপলে ছাড়লেও পাপ পাপীকে ছাড়ে না। আমার বেলায়ও তাই হয়েছে। আমি এখন পাকা জুয়াড়ি। টাকার নেশা আমি ছারতে পারিনি। অঢেল টাকা আমার চারপাশে। এসবের কিছুই ও জানে না। ওকে বলেছিলাম এসব বাদ দিয়েছি। কিন্তু টাকার সামনে ওয়াদা বড় ক্ষুদ্র।
¤১৪-২-১১
আজ আমাদের ভালোবাসার ৬ বছর পুরন হবে। চেয়েছিলাম ওকে একটা সারপ্রাইজ দেবো। কিন্তু আজ জুয়ার আসরে আমি বড় ধাক্কা খেলাম। টাকার চিন্তায় জীবনে প্রথম মদ খেলাম। আমাকে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বাসায় পৌছে দেয় কয়েকজন। আমার হুশ ছিলো না, সেই সুযোগে ওরা আমার নিষ্পাপ বৌয়ের উপর নির্যাতন চালায়। আমি শুধু একটি আর্তচিতকার শুনেছিলাম,তারপর সব নিরব।
¤১৫-২-১১
>সকাল ১১ টা।
আমার হাতে শ্রাবন্তির চিঠি।
"বলেছিলে আজ সারপ্রাইজ দেবে, কিন্তু এতো বড় সারপ্রাইজ আশা করিনি"
আমার সামনে সিলিং এর সাথে শ্রাবন্তি ঝুলছে।
>দুপুর ২ টা।
সামনে তিনটি গলা কাটা লাশ। যারা আমার নিষ্পাপ বৌকে নির্যাতন করেছে তাদের সবকটাকে নিজের হাতে শেষ করেছি। চিতকার করতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি নির্বাক। সব ভুল গুলো চোখের সামনে ভাসছে। ওর কোনো কথা শুনিনি। তাই আজ আমার এই পরিনতি। এই পাপের একমাত্র শাস্তি মৃত্যু।
¤২৪-৬-১৩
আজ আমাদের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী। আজ আমি ওর কাছে যাবো। এতো দিন অনেক কষ্ট হয়েছে ওকে ছাড়া থাকতে।ওইতো আমাকে ডাকছে। হ্যা, সেই কন্ঠ, সেই মুখ, সেই হাসি। আসছি,আর মাত্র কয়েকটি ঘন্টা, আমি আসছি।
.
এতোক্ষন ৩ নাম্বার কেবিনের আসামীর ডাইরী পরছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জনাব নাসিম আহমেদ। চোখের কোনে বিন্দু বিন্দু জল জমেছে। তিনটি খুনের দায়ে সদ্য মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা লাশের দিকে তাকালেন তিনি। লাশটার মুখে হালকা হাসির রেখা দেখা যাচ্ছে। এ হাসি মুক্তির হাসি অথবা পুনর্মিলনের।